জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গঠন এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী আত্মরক্ষা বা সেল্ফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ জাকসুর উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শুরু হবে। জাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহাদী হাসান জানিয়েছেন, মাসব্যাপী এই কোর্সে মোট ১২টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশিক্ষণটি প্রতি সপ্তাহে শনি, রবি ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি ক্লাসের সময়কাল হবে দেড় ঘণ্টা। প্রশিক্ষণার্থীদের সুবিধার্থে পুরো কার্যক্রমটি দুটি ব্যাচে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ব্যাচের ক্লাস বিকেল ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ব্যাচের ক্লাস বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য মোট ১০০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে নারী শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এতে মার্শাল আর্টের প্রাথমিক শারীরিক অনুশীলন, আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান সময়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নারীদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা এবং তাদের মনোবল ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১২টি ক্লাসের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যায়াম ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কিত কিছু তাত্ত্বিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু আত্মরক্ষার সক্ষমতাই অর্জন করবে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জীবনযাপনে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের কোর্স শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরিবেশ আরও সুসংহত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুরক্ষায় আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা তাদের দৈনন্দিন জীবনে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
