বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী মাসব্যাপী দাওয়াতি অভিযান কর্মসূচি শুরু করেছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর তুরাগ দক্ষিণ থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরিয়া এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও থানা আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক থানা আমির ও শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম, থানা সেক্রেটারি আহসান হাবিব এবং সহকারী সেক্রেটারি শফি আলম সজীব। উদ্বোধনী বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, যারা এই দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করছেন তারা যেন মানুষের কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেন।
তিনি আল্লাহর পথে সময় ব্যয় করাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে নেতৃত্ব থাকবে চরিত্রবান, ধর্মপ্রাণ ও নিঃস্বার্থ মানুষের হাতে। তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংসদ ভবনের মতো সুরক্ষিত এলাকার সামনে একজন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর শিক্ষকতা করা ওই নারী স্বামীর সঙ্গে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
মোটরসাইকেল থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ টান দেওয়ার সময় তিনি রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন নারী যদি তার স্বামীর সঙ্গেও নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের উদ্দেশ্য এমন একটি বাংলাদেশ ছিল না।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা কাম্য নয় যেখানে সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন যেখানে বিপদে পড়লে রাষ্ট্র নাগরিকের পাশে দাঁড়াবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থার কথা বলে যেখানে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সব ধরনের অন্যায় ও জুলুমের অবসান ঘটে।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী এই দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাঈ হিসেবে ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষকে ন্যায়, সততা ও ইসলামের পথে আহ্বান জানানো প্রতিটি কর্মীর দায়িত্ব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সৎ ও চরিত্রবান নেতৃত্বের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব। এই মাসব্যাপী অভিযানের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী সাধারণ মানুষের কাছে তাদের আদর্শ ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে।
