জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর দাবি করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মানিক সওদাগরের এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নজরুল ইসলাম বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক এবং সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মানিক সওদাগরের আপন বড় ভাই। সভায় মানিক সওদাগর দাবি করেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বকশীগঞ্জের সাতটি ইউনিয়নে বিএনপিকে নজরুল ইসলাম রক্ষা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শেই নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।
বর্তমানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাঁকে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে মানিক সওদাগর অভিযোগ করেন। তিনি এই ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারিও প্রদান করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম একসময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন।
২০১৬ সালে তিনি পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন এবং ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী আসামি হলেও নজরুল ইসলামের নাম সে সময় তালিকায় ছিল না।
তিনি এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে নজরুল ইসলাম উপস্থিত হলে বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন আপত্তি জানান এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। এর প্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন। মানিক সওদাগর দাবি করেছেন, নজরুল ইসলাম এখন আর আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের পদে নেই। তিনি জানান, ২০১৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সময় যুবলীগ থেকে নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক সওদাগর জানান, তিনি এখনো যোগ দেননি, তবে ভবিষ্যতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, একজন যুবলীগ নেতার পক্ষে বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনার দাবি দলের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, মানিক সওদাগরের দাবি, নজরুল ইসলাম দলের বিপদের সময় পাশে ছিলেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলা বা কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
