জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় মা ও তার কিশোর ছেলেসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পুরাতন রেললাইন এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী লাকি আক্তার এবং তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে রাজু রয়েছেন। একই দিনে মেলান্দহ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ জুনায়েদ হাসান তায়েব নামে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পুরাতন রেললাইন এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজু নিজ বাড়িতে একটি ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছেলেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় দেখে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মা লাকি আক্তার। তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সময় তাদের পরিবারের সদস্য বুলি বেগম তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
একই দিনে মেলান্দহ উপজেলায় অপর একটি ঘটনায় মোহাম্মদ জুনায়েদ হাসান তায়েব নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সে কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসার বিরতির সময় তায়েব তার বই শ্রেণিকক্ষে রেখে বাইরে খেলতে গিয়েছিল।
ক্লাস শেষে সে বই নিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে। এ সময় মাদ্রাসার ভবনের ছাদের কাছে থাকা একটি উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তায়েবের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টের এই দুটি ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি এবং উন্মুক্ত তারের কারণে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ থানা পুলিশ পৃথকভাবে এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসাবধানতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সংযোগের বিপদ সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জনবহুল স্থানে বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রয়োজন না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ সাধারণ মানুষকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি থাকে, যা থেকে সাবধান থাকা প্রয়োজন। নিহতদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো বিদ্যুৎ নিরাপত্তার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
