জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক দুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় মা-ছেলেসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ও সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। এই ঘটনায় বুলি বেগম নামে আরও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রাজু (১৪), তার মা লাকী আক্তার (৪০) এবং মেলান্দহ উপজেলার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জোনায়েদ হাসান তায়িব।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদরের পুরাতন রেললাইন এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজু তাদের বসতঘরের একটি বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতের চেষ্টা করছিল। এ সময় সে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ছেলেকে বিদ্যুতের তারে আটকে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান মা লাকী আক্তার। তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই দৃশ্য দেখে রাজুর দাদি বুলি বেগম তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই দিন বিকেলে মেলান্দহ উপজেলার কোনা মালঞ্চ এলাকায় অবস্থিত আমেনা দাখিল মাদরাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ জোনায়েদ হাসান তায়িব নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ক্লাসের বিরতির সময় বই শ্রেণিকক্ষে রেখে তায়িব বাইরে খেলতে গিয়েছিল। পরে ছুটি হলে সে শ্রেণিকক্ষে বই আনতে যায়। এ সময় ভবনের ছাদসংলগ্ন স্থানে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার এই ঘটনাগুলো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি এবং ভবনের ছাদসংলগ্ন বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতার অভাবকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় কোনো আইনি জটিলতায় যেতে চাননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে বসতঘরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত করার সময় দক্ষ মিস্ত্রির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ বা ভবনের আশেপাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল।
