জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আতাউর রহমান আগা নামে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
৬৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আগা জানান, ঘটনার সময় তিনি তার সার ও কীটনাশকের দোকানে ছিলেন। বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন যে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে দেখেন যে তার বসতঘর ও রান্নাঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আতাউর রহমান আগা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। তিনি মঙ্গলবার ইসলামপুর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হেলাল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, এরশাদ, মিজান, জিয়া, দুলাল, আফরোজা বেগম, তানিয়া বেগম এবং আব্দুল কুদ্দুসসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাড়ির সীমানায় থাকা ১০ থেকে ১২টি আম ও কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে। এরপর তারা বসতঘর ও রান্নাঘরে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে খাট, চেয়ার ও টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে রাস্তার পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। এছাড়া ঘরের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ব্যবসার চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। আতাউর রহমান আগার দাবি অনুযায়ী, বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া গাছ কেটে ফেলার কারণে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি, তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী আতাউর রহমান আগা জানান, তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। বর্তমানে তার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
