ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও বর্তমান সরকার দেশের চলমান সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন যে, সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পোৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বেকারত্বের হার বৃদ্ধির ফলে চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, যা নগরবাসীকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। রাষ্ট্রের এই গুরুতর সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা বা গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ বা ইরান যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে কেবল দুঃখ প্রকাশ করছেন, কিন্তু সংকট সমাধানে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছেন না। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, দেশকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়ে কেবল দুঃখ প্রকাশ করা কোনো সমাধান হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এই সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংকটের এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে দুর্নীতির নতুন সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেখতে না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, রাষ্ট্রের সংকট সমাধান করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সংকটের কারণ যাই হোক না কেন, তা নিরসনের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, যদি বর্তমান মন্ত্রীরা সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম না হন, তবে তাদের স্থলে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান করা উচিত।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, দেশকে সংকটের মধ্যে ফেলে রেখে নিজেরা সমাধানের পথ বের না করা সরকারের ব্যর্থতা। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, সবকিছুতে তিন বছর আগের সরকারের দোহাই দিয়ে নিজেদের দোষ এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ ফুঁসে উঠলে সরকারের গদি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এম এইচ মোস্তফা, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইলিয়াস হাসান। বক্তারা অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানান।
