প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি সচিবালয়ে অবস্থিত তার দপ্তর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এবং এর আশেপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তর থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সৌজন্য বিনিময় করেন। জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
প্রতি বছর এই উৎসবটি বেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই উৎসবে অংশ নেন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানি প্রদানের মাধ্যমে তাদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে বলে মনে করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সচিবালয়ে তার দপ্তরে ফিরে যান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদযাত্রা এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
তারা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের মূলধারার সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পুরোহিত এবং সেবাইতরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর থেকে প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।
এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও চাহিদার কথা শোনেন। দেশের প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে তাদের উৎসবগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রতি বছরই জন্মাষ্টমীর মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানি প্রদানের বিষয়টি তাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
