বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আগামীকালের ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরী উত্তরের বসুন্ধরা সাংগঠনিক থানার উদ্যোগে আয়োজিত ষাণ্মাসিক রুকন সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন যে, এই লংমার্চকে কোনোভাবেই একঘেয়ে বা সাধারণ কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করার প্রবণতা থাকলে তার পরিণতি সংশ্লিষ্টদেরই ভোগ করতে হবে।
সমাবেশে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশে সৎ, যোগ্য এবং ধার্মিক নেতৃত্বের হাতে শাসনক্ষমতা অর্পণ করা প্রয়োজন। লংমার্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, লংমার্চে কোনো প্রকার উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন লংমার্চের ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন এবং সরকার এই দাবিগুলো মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার দাবিও তিনি উত্থাপন করেন। রুকন সমাবেশে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের কুরআন পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সচেতন করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি পরিবারের মতো এবং প্রত্যেক সদস্যকে নিজে কুরআন পাঠ করার পাশাপাশি অন্যদেরও কুরআন পাঠে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমনভাবে কাজ করে যেতে হবে যাতে মৃত্যুর পরও মানুষ তাদের জন্য শোক প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য এবং বসুন্ধরা থানার আমির মো. আবুল বাসার। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবেও পরিচিত।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউসুফসহ কর্মপরিষদ শূরা সদস্য এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতারা। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের এই বক্তব্য এবং লংমার্চের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। লংমার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সাংগঠনিক থানার উদ্যোগে এ ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। রুকনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
