পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন যে, চলতি মাসের ৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে ফিরে আসার পর তার ভারত সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন এবং সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমান সরকারের প্রথম দিন থেকেই বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও মস্কোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমানতা এবং কৌশলগত গুরুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কাজ করছে।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সফল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অগ্রগতিতে বাংলাদেশের অত্যন্ত দক্ষ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বজুড়ে ভূমিকা রাখছে এবং শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানখাতে সুবিধা সীমিত হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। রুট বা আকাশপথ হারানোর কারণে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা বিবেচনা করে বাংলাদেশকে একটি ‘এভিয়েশন হাব’ বা বিমান চলাচলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে পারে না বলে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মনে করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক অঙ্গনে অবদান রাখতে হলে এই দুই নীতিকে অবশ্যই সমন্বিত এবং একে অন্যের পরিপূরক হতে হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ভারতকে আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বুঝতে হবে এবং তারা বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছে বলে তিনি মনে করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কথাবার্তা চলছে তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হয়ে যাওয়ার আগে এই সফরের সম্ভাবনা নেই।
