জাতীয় সংসদে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট সংশোধন বিল পাস হয়েছে। রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিলটি পাসের পর সরকারি দলের সদস্যরা বাবা-মায়ের সুরক্ষার জন্য এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নতুন এই আইন অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা যদি তাদের সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তবে তারা আজীবন সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার পাবেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপনের সময় মুসলিম পারিবারিক আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলে নোটিশ প্রদান বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরবিট্রেশন কাউন্সিল ৯০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে তলব করবে। কাউন্সিল উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বা পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে। যদি সমঝোতা সম্ভব না হয়, তবে ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তালাক কার্যকর হবে।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত উদাহরণের মাধ্যমে তালাক সংক্রান্ত ইসলামিক আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ইসলামিক আইন অনুযায়ী তালাক প্রদানের প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আইনি কাঠামোতে তালাক কার্যকর করার জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের মাধ্যমে যে সময় ও প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৮৮২ সালের মূল আইনের সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি আনা হয়েছে। এই সংশোধনীটি মূলত বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রণয়ন করা হয়েছে। সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর বাবা-মায়ের অসহায়ত্ব দূর করা এবং তাদের আজীবন বাসস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানই এই আইনের মূল লক্ষ্য। সংসদ অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, পারিবারিক আইন ও সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের বিধানগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তালাক বা পারিবারিক বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আইনত বাধ্যতামূলক। এই সংশোধনী পাসের মাধ্যমে সম্পত্তির হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সুরক্ষার বিষয়টি আইনি ভিত্তি পেল। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর অংশ হিসেবে বিলটি উত্থাপন, আলোচনা এবং কণ্ঠভোটে পাসের মাধ্যমে এটি এখন আইনে পরিণত হওয়ার পথে।
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে বিলটি পাস হলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই আইনকে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিভিন্ন ধারা ও উপধারা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা সংসদীয় রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি জানান, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের মাধ্যমে সমঝোতার যে বিধান রয়েছে, তা পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
এই সংশোধনীটি কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে আইনি জটিলতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে আইনের প্রয়োগ ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো বাবা-মা তাদের সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরেও নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
এই আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বাবা-মায়ের আজীবন সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।
