জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় বিরোধী জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রথম পর্ব শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতারা।
বিরোধী জোটের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং ওয়াদা লঙ্ঘন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে পথ অনুসরণ করেছিল, বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই সতর্ক না হলে এই সরকারের পরিণতিও আগের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই হবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছিল। কিন্তু মানুষ আশা করেছিল যে এবার পরিবর্তন আসবে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে, যা বাস্তবে ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান মেয়র যত দিন ইচ্ছা তত দিন থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে, যা সুশাসনের পরিপন্থী এবং ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। তিনি মেয়রের পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসার আহ্বান জানান।
জামায়াতের আমির আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকজন এখন সন্ত্রাস ও চুরি-ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ধরা পড়ার পর দেখা যায় অনেকে বিএনপির লোক, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সমাবেশে বলেন, তারা পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং নতুন কোনো স্বৈরাচার তৈরি হতে দেবেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, জনগণের অধিকার ও সমাধান যদি সংসদ থেকে না আসে, তবে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার অথবা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনার পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, এই লংমার্চ সরকার পতনের জন্য নয়, বরং সরকারকে জাগাতে এবং সতর্ক সংকেত দিতে করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, গণভোটের রায় কার্যকর না হলে এবং সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
মামুনুল হক বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি শুধু নির্বাচন আদায়ের বিষয়ে আন্তরিক ছিল, কিন্তু গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তারা আন্তরিক ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, যে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেই রায়কে উপেক্ষা করা হলে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে অতীতের বাকশালি সরকারের কোনো পার্থক্য নেই। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় লোকদের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
কর্নেল অলি আহমদ আরও দাবি করেন, দেশে টাকার সংকট রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নোট ছাপানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার আগে ছয় মাসের মধ্যে এক লাখ মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক মানুষের চাকরি চলে গেছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিরাপত্তা ও সুশাসন চায়, তাই সরকারের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
