চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট এবং কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাস সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আরেক সিএন্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে শুক্রবার সকালে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
হুমকির ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় অবস্থিত তার অফিসে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, হামলাকারীদের অনেকে মদ্যপ অবস্থায় ছিল। হামলাকারীরা অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তারা তার কক্ষের দরজা ভাঙারও চেষ্টা চালায়।
রফিকুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা অফিসে থাকা ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদ এবং স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রথমে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে যুবদল নেতা রকিবুল ইসলাম ব্রাইট এবং ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, আটককৃত দুইজনের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিএন্ডএফ ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।
