চোর শনাক্তকরণ বা অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে চালপড়া কিংবা বাটি চালানের মতো পদ্ধতির কোনো ইসলামি ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসলামি শরিয়তে কোনো অপরাধ প্রমাণের জন্য চালপড়া বা তেলপড়ার মতো অলৌকিক পদ্ধতির কোনো স্থান নেই।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলামি বিচারব্যবস্থা এবং দণ্ডবিধিতে অপরাধ প্রমাণের একমাত্র স্বীকৃত উপায় হলো উপযুক্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা। কোরআন ও হাদিসের আলোকে তিনি উল্লেখ করেন যে, যেকোনো অভিযোগ বা দাবির সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপর বর্তায়। ইসলামি নীতি অনুযায়ী, যিনি অভিযোগ উত্থাপন করবেন, তাকেই যথাযথ সাক্ষী বা প্রমাণ হাজির করতে হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে তাকে শপথের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দেওয়া হয়। এটিই ইসলামি শরিয়তের নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়া। চালপড়া বা বাটি চালানের মতো বিষয়গুলোকে তিনি শরিয়তসম্মত নয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে বাটি চালান দেওয়ার মাধ্যমে অলৌকিক উপায়ে চোর শনাক্ত করার যে প্রচলন দেখা যেত, তার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
অনেক সময় বিভিন্ন মন্ত্র বা জাদুটোনার মাধ্যমেও অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, যা শয়তানের প্রভাবেও হতে পারে। তাই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটলেই সেটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো নিদর্শন বা অলৌকিক ক্ষমতা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি অলৌকিক কিছু দেখালেই তাকে নেককার বা আল্লাহর ওলি মনে করার কোনো কারণ নেই।
ইসলামি আদালত বা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, চালপড়া বা বাটি চালানের মাধ্যমে পাওয়া কোনো তথ্যকে ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এ ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে যদি কোনো কিছু ঘটেও, তবুও সেটিকে আইনি বা ধর্মীয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী কি না, তা কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে।
চালপড়া বা বাটি চালানের মতো অবৈজ্ঞানিক ও শরিয়তবহির্ভূত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা বা কাউকে সন্দেহ করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অনুচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ইসলামে কোনো বিশেষ দোয়া বা আমলের অস্তিত্ব নেই। তিনি হাস্যরসের ছলে উল্লেখ করেন যে, ইসলামে চাল পড়ার কোনো দোয়া নেই, তবে চাল বা ভাত খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আল্লাহর নামে তা খাওয়ার নিয়ম রয়েছে।
পরিশেষে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, চুরি বা যেকোনো অপরাধের বিচার হতে হবে প্রচলিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। অলৌকিকতার দোহাই দিয়ে বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করা ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার, যা কেবল বাস্তবসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি চালপড়া বা বাটি চালানের মাধ্যমে চোর ধরার দাবি করে, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর কোনো ধর্মীয় বৈধতা নেই। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শরিয়তসম্মত।
