চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে নয়জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার হিসেবে ডিম ও পাউরুটি খাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে জয়নব, সিনথিয়া, সুমাইয়া ও মাহমুদা।
তাদের অভিভাবক হিসেবে যথাক্রমে যহুরুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, সুমন ও মোজাম্মেলের নাম জানা গেছে। এছাড়া আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী একই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের বমি ও তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের এই খাবার দেওয়া হয়েছিল। খাবার খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলো তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, খাবারগুলো নিম্নমানের বা অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত দুধ, ডিম, রুটি ও ফল সরবরাহ করা হয়। তবে এই ঘটনার পর থেকে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাবার বিতরণের আগে এর মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিদ্যালয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। খাবার সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন অভিভাবকরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুস্থ হতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে এবং তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
