চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকে এই ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই প্রথমবার এই ঘটনায় হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও তদন্তের কারণে মামলাটি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায় যে, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি বরং তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
তবে সালমান শাহর পরিবার এই প্রতিবেদনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করে আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মৃত্যুর ঘটনায় পুনরায় হত্যা মামলা দায়ের করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশের পর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়, যেখানে ডনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর থেকে ডন প্রকাশ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। তিনি এফডিসিতে যাতায়াত করেছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, মামলা হওয়ার পরেও ডন দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়েছেন। নীলা চৌধুরী দাবি করেন, ডন তার ছেলের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সালমান শাহ তাকে সিনেমায় সুযোগ দিয়ে পরিচিতি পেতে সাহায্য করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ডনকে রিমান্ডে নেওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং তদন্তের স্বার্থে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসা প্রয়োজন। নীলা চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, সালমান শাহ বেঁচে থাকলে চলচ্চিত্রের চিত্র হয়তো ভিন্ন হতো, কারণ তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তিনি সামিরাসহ মামলার অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং তাদের আয়ের উৎস ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
গ্রেপ্তারের আগে ডন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে দাবি করেছিলেন যে, তিনি ২৯ বছর ধরে কাজ করছেন এবং তার কোনো ভয় নেই। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সালমান শাহর মায়ের সাথে জনসম্মুখে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই বক্তব্যের কিছুদিন পরেই তিনি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। এদিকে ডন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর ভক্তরা।
আজ সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরের ভক্তরা ‘সালমান শাহ ভক্তবৃন্দ’ ব্যানারে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। তারা প্রধান আসামি সামিরাসহ মামলার অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও প্রত্যাশা রয়েছে।
তারা আশা করছেন, বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। বর্তমানে ডন কারাগারে থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনাটি এখনো চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্তদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
