চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ঘাটঘর এলাকায় একটি বোট থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪১০ বস্তা সার উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে নিয়মিত টহল চলাকালীন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা এই সারগুলো জব্দ করেন। উদ্ধারকৃত সারের বস্তাগুলোর কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কুমিরা ঘাটঘর এলাকায় টহল দেওয়ার সময় একটি বোটে বিপুল পরিমাণ সার পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪১০ বস্তা সার পাওয়া যায়। তবে বোটের মালিক বা সার বহনকারী ব্যক্তিদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সারগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে বা কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত সারগুলো বুধবার ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সারগুলো পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৪১০ বস্তা সার থানায় জমা নেওয়া হয়েছে। সারগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং উৎস শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বা ভর্তুকি মূল্যের সার অবৈধভাবে অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে বোটে মজুত করা হতে পারে। তবে সারগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সারের মালিকানা ও বোটটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সারের পরিমাণ এবং এর উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে সারগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সারের বস্তাগুলোর বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত কোনো দাবি নিয়ে আসেনি। সার পাচারের কোনো চক্র এর সাথে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
উদ্ধারকৃত সারগুলো সরকারি কোনো প্রকল্পের কি না বা এগুলো কোনো ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সীতাকুণ্ডের এই এলাকায় অতীতেও বিভিন্ন সময় অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সারের বস্তাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
