চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর পরিচালিত এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
অভিযানে বহদ্দারহাট মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে বহদ্দারহাট মোড় হয়ে শাহ আমানত সেতু সড়কের বহদ্দার পুকুর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক ও ফুটপাতের বড় একটি অংশ দখল করে এসব দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছিল। এর ফলে ওই এলাকায় সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তির কথা জানিয়ে আসছিলেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযানের মাধ্যমে সড়ক ও ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে ওই এলাকা দিয়ে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন এবং যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অভিযানে সহায়তা করার জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা বা স্থাপনা গড়ে তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নগরের সৌন্দর্য রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বহদ্দারহাট এলাকাটি নগরের অন্যতম ব্যস্ততম স্থান হওয়ায় এখানে অবৈধ দোকানপাটের কারণে যানজট নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হতো। এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগের ফলে নগরের অন্যান্য এলাকায়ও অবৈধ দখলদারদের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় কেউ সড়ক বা ফুটপাত দখল করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদকৃত দোকানের মালামাল ও স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য দখলদারদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া গেলেও, অভিযানের সময় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের যৌথ প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পুরো এলাকাটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নগরের জননিরাপত্তা ও চলাচলের পথ সুগম করতে সিটি করপোরেশনের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নগরীর যানজট পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহারের অধিকার ফিরে পাবেন।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা তাদের নিয়মিত কাজের অংশ।
