চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ভোরে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। এই নিয়ে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই বাড়িতে দ্বিতীয়বারের মতো চুরির ঘটনা ঘটল। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা স্থায়ীভাবে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন।
পটিয়ার এই বসতবাড়িতে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন মো. লিটন নামের এক ব্যক্তি। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় বর্তমানে সাবেক এমপির ভাগ্নে আজাদ ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে আজাদ বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা বাড়িতে প্রবেশ করে। নজরুল ইসলামের ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে চোরের দল ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর তারা পুরো ঘর তছনছ করে ফেলে। চোরেরা আলমারি ভেঙে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, আইপিএসের ব্যাটারি, দামি পিতলের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং মূল্যবান জামাকাপড়সহ বেশ কিছু মালামাল নিয়ে গেছে। সাইফুল ইসলাম আরও জানান, চুরির সময় বাড়িতে থাকা অনেক পুরোনো স্মৃতিচিহ্নও খোয়া গেছে। পরিবারের সদস্য বোরহান উদ্দীন জানান, গত ১৫ দিন আগেও একই বাড়িতে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
পরপর দুইবার একই বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বারবার চুরির ঘটনা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্যের বসতঘরে চুরির বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চুরির ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, চোরদের শনাক্ত করতে এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে তারা কাজ করছেন। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িতে কোনো সদস্য না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকাটি জনবহুল হলেও বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে একই বাড়িতে দুইবার চুরির ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।
