চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪৩ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে উপজেলার কালাবিবি দিঘীর মোড় এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম মার্কেটের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার র্যাব-৭ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আটককৃত দুই ব্যক্তির নাম শফি আলম (৩৬) এবং আবদুর রহিম (৪৭)। শফি আলম কক্সবাজারের উখিয়া থানার মহুরীপাড়া এলাকার ফাইজুল হকের ছেলে এবং আবদুর রহিম কক্সবাজার সদর থানার নয়াপাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, কয়েকজন মাদক কারবারি সিএনজি অটোরিকশায় করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে কালাবিবি দিঘীর মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে র্যাব সদস্যরা। তল্লাশির একপর্যায়ে সবুজ রঙের একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থামানোর সংকেত দেওয়া হয়।
গাড়িটি থামার পর ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। র্যাবের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে সিএনজি অটোরিকশাটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২২টি বান্ডেল পাওয়া যায়। ওই বান্ডেলগুলো খুলে ৪৩ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৩২ লাখ টাকা বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা এবং জব্দ করা সিএনজি অটোরিকশাটি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচারের মূল হোতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিশাল চালানটি চট্টগ্রাম শহরের কোনো চক্রের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র্যাব। বর্তমানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
