চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মার্কেটের চলাচলের রাস্তায় বা ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা দেলওয়ার হোসেনসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের এ আলী শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের চলাচলের রাস্তায় দোকান বসানো নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইজারাদার পক্ষের বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে ওই নির্দিষ্ট স্থানে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা প্রদান করেন।
এই বাধা প্রদানের ফলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ব্যবসায়ী আলী আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, যুবদল নেতা নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দুপুরে ওই স্থানে দোকান নির্মাণ করতে আসেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বাধা দিলে তারা চলে যান। তবে পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির আহমেদ এবং যুবদল নেতা আজম খানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালান।
এই হামলায় সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এবং বাজারের ইজারাদার জাকির আহমেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বাজারের খালি জায়গায় তার দলের কয়েকজন ব্যক্তি দোকান নির্মাণ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন বলে তিনি জানান।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে চারজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আহতদের তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী মো. সুমন, আব্দুর রহিম, ইকবাল কবির, সাইফুদ্দিন, শহিদ এবং আলী হোসেন।
এদের কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় এনসিপির আনোয়ারা উপজেলা কমিটির সদস্য এবং সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলওয়ার হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। দেলওয়ার হোসেনের দাবি, তিনি সংঘর্ষস্থল থেকে কিছুটা দূরে আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় বসে ছিলেন। এই সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা করেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
দেলওয়ার হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থলের অনেক দূরে বসে থাকলেও হঠাৎ করে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এনসিপির দক্ষিণ জেলা সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক জানান, দিনের বেলায় ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। সন্ধ্যায় দেলওয়ার হোসেনকে একা পেয়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার ওপর হামলা করেন। তিনি আরও জানান, দেলওয়ার হোসেন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে এটি ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে ঘটেছে এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে মনে হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, এখনো কোনো পক্ষ থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।
অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
