আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চের পরিকল্পনা করা হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছে।
এই বিশাল গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবে। কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতিটি পথসভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না। এর পরিবর্তে একটি অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল আগে গন্তব্যে পৌঁছে বক্তব্য প্রদান করবে এবং পরবর্তীতে মূল গাড়িবহর ও শীর্ষ নেতারা সেখানে পৌঁছাবেন। কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি বা যানজট সৃষ্টি না হলে সন্ধ্যা বা মাগরিবের মধ্যে গাড়িবহরটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেখানে ১১ দলের নেতাদের অংশগ্রহণে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অংশগ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে স্টিকার ও নম্বর থাকবে এবং অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ডেলিগেট কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া বহরে শীর্ষ নেতাদের গাড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, আইটি ও মিডিয়া টিমের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যাত্রাপথে গাড়ি থেকে নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পথসভাগুলোতে স্থানীয়ভাবে ১১ দলের নেতাকর্মীরা জনসমাগম নিশ্চিত করবেন। অংশগ্রহণকারীদের যাত্রাপথের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লংমার্চ শুরুর পর নতুন কোনো গাড়ি বহরের মাঝখানে যুক্ত হতে পারবে না। কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে চাইলে তাকে একদম শেষ প্রান্তে অবস্থান নিতে হবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, এটি সরকার পতনের কোনো আন্দোলন নয়। বরং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রচর্চার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তাই শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা। এরই মধ্যে ১১ দলের নেতারা পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লংমার্চের বিস্তারিত পরিকল্পনা অবহিত করেছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লংমার্চের গাড়িবহর ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, লালদীঘি ময়দানের জনসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং ১১ দলের নেতারা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পরিশেষে, তিনি দেশবাসীর কাছে কর্মসূচির সফলতা কামনায় দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
