চট্টগ্রাম মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলার অংশ হিসেবে ৩৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩২৭ কেজি ৭০৪ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ২৮৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪১ লিটার ২৫ মিলিলিটার মদ, দুই বোতল স্কাফ সিরাপ এবং চার বোতল ভারতীয় মদ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে এই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। গ্রেফতারকৃত ৩৪৮ জনের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৫ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন ১৩০ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন আটজন। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মোট ৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ৯৪ জনের মধ্যে ৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ী, আটজন মাদক বহনকারী এবং ৪৭ জন মাদকসেবী রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ হাজার ৬০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এই অভিযানে মোট ৩৩টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, মাদক নির্মূলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাদকের বিস্তার রোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ এবং গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা থেকে বোঝা যায় যে, চট্টগ্রাম এলাকায় মাদকের চোরাচালান ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। অভিযানের সময় জব্দ করা ৩২৭ কেজি ৭০৪ গ্রাম গাঁজা এবং ৩ হাজার ২৮৪টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যগুলো বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে এগুলো ধ্বংস করা হবে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাদকসেবীদের পুনর্বাসন বা সংশোধনের বিষয়েও আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
কোনো এলাকায় মাদকের কারবার চললে বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানটি চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পরিচালিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদকের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
