চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্তর নামে চট্টগ্রামের একটি উড়ালসেতু নামকরণের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের নামে একটি উড়ালসেতু ইতিমধ্যে নামকরণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শহীদ ফয়সাল আহমদ শান্তর নামেও একটি উড়ালসেতুর নামকরণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, গত ১৮ বছর ধরে তাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে তারা পালাবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পালিয়ে গেছেন। শাহজাহান চৌধুরী দাবি করেন যে, এখন তিনি আবারও ফিরে আসার জন্য হুঙ্কার দিচ্ছেন, তবে বাংলার মাটিতে তার বিচার হবে এবং তাকে ফাঁসির মঞ্চে পাঠানো হবে।
লালদিঘি ময়দানে এই সমাপনী সমাবেশটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবির ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের দ্রুত নিরসন করা।
এছাড়া নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। এই দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্যে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছিলেন।
শনিবার আসরের নামাজের পর থেকে সমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সাথে যুক্ত হয়ে লালদিঘি ময়দানে জড়ো হয়েছিলেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে তারা তাদের রাজনৈতিক এবং নাগরিক দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সংসদ সদস্য শাহ düzenন চৌধুরী এই দাবির সাথে সাথে জুলাইয়ের শহীদদের সম্মান জানানো এবং তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের নামকরণির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে স্মরণ করে রাখা সম্ভব হবে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা লংমার্চের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন যে, এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি আরও জোরদার করবেন।
