চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩০৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৭০ কেজি ৩১৪ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ বোতল হুইস্কি।
এই ঘটনায় মোট ২৩টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত ৩০৯ জনের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৮ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১০ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ১০১ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মোট ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জন মাদক ব্যবসায়ী, একজন মাদক বহনকারী এবং ৫৫ জন মাদক সেবনকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২ হাজার ৪৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, পুলিশের এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং মাদক সেবনের প্রবণতা কমিয়ে আনা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জব্দ করা মাদকদ্রব্যগুলো বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং মামলার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ইয়াবা, গাঁজা ও হুইস্কির বাজারমূল্য নিরূপণের কাজ চলছে।
এই অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো অভিযানের তদারকি করেছেন। মাদকবিরোধী এই কার্যক্রমের ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের অবস্থান শনাক্ত করার কাজ চলমান থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযান চট্টগ্রাম অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।
