সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থানের পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য বিএনপির বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরের টার্মিনালে ভিড় করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতার দেশে ফেরা উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন খোকন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হুদা মিঠু।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের আরও অনেক নেতাকর্মী তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাস দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা ও পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন।
তার অনুপস্থিতিতে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। এখন দেশে ফেরার পর তিনি পুনরায় তার রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। উল্লেখ্য যে, মির্জা আব্বাস বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেননি। তার এই ফেরা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার এই দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিমানবন্দর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি তার বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন।
তার এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর তার এই ফেরা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
