ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কিশোরী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ প্রদান করেন। কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ, তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা এবং রেশমার বাবা এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন। এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মীম আক্তারকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে।
মীম আক্তার কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। সে প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। মীমের পরিবারের অভিযোগ, বাসায় কাজ করার সময় থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। মীম নিজেও পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোনে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ১২ আগস্ট তার মরদেহ হাসপাতালের সামনে পাওয়া যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩ আগস্ট ফয়সাল আহমেদ মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায় যে মীম বাসা থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গেছে।
পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা ফয়সালের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ২০ আগস্ট মীমের পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ থাকার বিষয়টি জানতে পারে। পুলিশের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মীমের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট মীমের মা শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফয়সাল, রেশমা ও আব্দুর রাজ্জাককে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজা আক্তার ২৪ আগস্ট আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে মীম আত্মহত্যা করেছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানিয়েছেন, আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মীম আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
