গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আলমগীর হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই আদেশের মাধ্যমে মামলাটি বিচারের পরবর্তী ধাপ সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে প্রবেশ করল।
আদালত আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন। অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও ওমর ফারুক আসিফ তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান এবং তাদের কাছে জানতে চান তারা দোষী কি না। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এরপর আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, নিহত প্রীতি উরাং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগে প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই বাসার বসার ঘরের জানালার কাচের ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে প্রীতি গুরুতর আহত হন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই জানালাটিতে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না। ঘটনার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রীতির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা লোকেশ উরাং বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক এস এম মাহমুদ রেজা ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে আসামি করা হয়। মামলাটি বিচার শুরুর পর্যায়ে পৌঁছালে গত ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারের পর তারা প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ২০২৪ সালের জুন মাসে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়াটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শুরু হলে মামলার প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আদালত নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলার বিচার কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
