বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
সমাবেশে মামুনুল হক বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই তফসিলে এবং একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখন সরকার যদি ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে বানচাল করার চেষ্টা করে, তবে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি গণভোটের ফলাফলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠবে। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, অতীতে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধন আনা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে তা টেকেনি। তাই সংবিধানে এমনভাবে পরিবর্তন আনতে হবে যেন তা স্থায়ী হয়।
তিনি সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে প্রতিস্থাপন করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালত তা বাতিল করতে না পারে। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থাগুলো নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারবে না। আগামী দিনের সরকারকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখার জন্য জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে তিনি ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ইসলামপন্থি দলকে এক কাতারে আসতে হবে। বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির জেলা সেক্রেটারি মুফতি মামুন রহমানী।
সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন এবং তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মামুনুল হক তার বক্তব্যে আরও বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই গণভোটের রায় এসেছে।
এই রায়কে সম্মান জানানো সরকারের দায়িত্ব। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সংবিধানের সংস্কার নিয়ে তিনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার দাবি রাখেন তিনি। তিনি মনে করেন, কেবল সাংবিধানিক সংস্কারই পারে একটি স্থিতিশীল ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র উপহার দিতে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে স্বপ্ন তারা দেখছেন, তা বাস্তবায়নে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। বগুড়ার এই সমাবেশ থেকে তিনি সরকারের প্রতি তার দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করার আহ্বান জানান।
