গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের নন্দীচালা গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি পরিবারের বসতঘর ও গবাদি পশুসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাধাবল্লব মালো ও অর্জুন মালোর বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা রাধাবল্লব মালোর গোয়াল ঘর এবং অর্জুন মালোর বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে স্থানীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোয়াল ঘরে থাকা দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া অর্জুন মালোর বসতঘরে থাকা সব আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং মাছ ধরার জালসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজান হোসেন খান পরদিন সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, নন্দীচালা গ্রামে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের ভয়াবহতায় সবকিছু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। চেয়ারম্যান আফজান হোসেন খান ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানান, অগ্নিকাণ্ডে দুটি পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তাদের ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। স্থানীয়ভাবে এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা চললেও আগুনের কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও সম্পদ এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান ও সরু রাস্তার কারণে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
তবে আগুনের উৎস সম্পর্কে কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন তাদের হারানো সম্পদ ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য সহায়তার প্রত্যাশা করছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১২টার দিকে যখন আগুনের শিখা আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লেগে যায় এবং ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারি বা বেসরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
