গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর থেকে শ্রীপুরের মোনা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটিতে মোট চারজন যাত্রী ছিলেন। কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই তীব্র সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশার চালক এবং চারজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এই দুর্ঘটনার ফলে ওই আঞ্চলিক সড়কের ট্রাফিক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন। অটোরিকশাটি এবং কাভার্ড ভ্যানটি দুর্ঘটনার পর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, অটোরিকশাটি এবং কাভার্ড ভ্যানটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল এবং তাদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আহত তিনজন বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মওনা আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয় যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই পথে প্রায়ই যানবাহন চলাচল করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। স্থানীয়রা এই সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম আরও জানান যে, তারা দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
