কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকা থেকে ১২ টন চিনিসহ মহাদেব চন্দ্র সাধু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। শনিবার ট্রাকভর্তি চিনিসহ তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় মহাদেব চন্দ্র সাধু নিজের নাম ও পরিচয় গোপন করে নিজেকে মো. গোবিন্দ মন্ডল হিসেবে পরিচয় দেন।
তবে পরবর্তীতে গণমাধ্যমে তার ছবি ও আটকের সংবাদ প্রচার হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে তার আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ৩৫টি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মহাদেব চন্দ্র সাধু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে শতাধিক কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
আটক হওয়ার সময় তিনি তার প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন করে নিজেকে খুলনা জেলার হরিণটানা থানার বাসিন্দা হিসেবে দাবি করেছিলেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম মহাদেব চন্দ্র সাধু এবং তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, শনিবার সকালে ট্রাক থেকে চিনি গড়িয়ে রাস্তায় পড়ার কারণে স্থানীয়রা সন্দেহবশত ট্রাকটি আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতদের মধ্যে মহাদেব চন্দ্র সাধু ছাড়াও মো. আজিজুল শেখ, মো. শামীম হোসেন, মো. আব্দুল মালেক এবং ট্রাকচালক মো. জুবেল হোসেন রয়েছেন। আটকের পর তারা চিনির মালিকানার দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পুলিশ আরও জানায়, শুক্রবার রাতে আরও দুটি ট্রাক খাজানগরে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই ট্রাকগুলোর উদ্দেশ্য ও মালিকানা সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে। মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় মামলা রয়েছে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান জানান, ওই থানায় তার বিরুদ্ধে ছয়টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেছেন।
সাতক্ষীরার এক ব্যবসায়ী জানান, মহাদেব চন্দ্র সাধু প্রথমে ছোট লেনদেনের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে এনআই অ্যাক্টের মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই কোটি টাকা জরিমানার রায়ও রয়েছে।
তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এর আগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, মহাদেব চন্দ্র সাধু অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। রোববার বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার প্রতারণার নেটওয়ার্ক ও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে থাকা ৩৫টি মামলার অধিকাংশেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঝালকাঠি, পাবনা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ এখন তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করছে।
