কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খাল থেকে হাসনা খাতুন নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত হাসনা খাতুন পার্শ্ববর্তী বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের করিম আলীর স্ত্রী।
উদ্ধার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, মরদেহটি উদ্ধারের সময় বৃদ্ধার কোমরে গামছা দিয়ে বালির বস্তা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে হাসনা খাতুন তার ছেলে হাসান আলীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন।
এরপর তিনি নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু পরদিন ভোররাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পাওয়ায় পরবর্তীতে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা জিকে খালে মরদেহটি ভাসতে দেখেন।
তারা বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃদ্ধার কোমরে বালির বস্তা বেঁধে রাখাটা অত্যন্ত রহস্যজনক।
পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করছে। এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
মিরপুর থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশি তদন্তের ওপর নির্ভর করছে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন।
