কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার রক্ষা এবং মা মাছ ও রেনু পোনা নিধন রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি কানু হাজীর বাগান বাড়ি এলাকায় একটি গুদাম থেকে ২২ বস্তা অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত জালগুলো পরবর্তীতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ. এম আজিমুল হকের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন এবং ভৈরব শহর ফাঁড়ি থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা প্রদান করেন।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই অভিযান চালানো হয়। পৌর শহরের পঞ্চবটি কানু হাজীর বাগান বাড়ি এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল মজুদ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। গুদামটি তল্লাশি করে মোট ২২ বস্তায় ৪৪০ পিস চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করা হয়।
এই জালগুলো সাধারণত নদী ও জলাশয়ে মাছের পোনা ও ছোট মাছ নিধনে ব্যবহৃত হয়, যা মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ. এম আজিমুল হক জানান, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি এবং পোনা মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিস নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গুদাম থেকে জাল উদ্ধারের পর এর মালিকপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করেছে। আইন অমান্য করে অবৈধ জাল মজুদ রাখার দায়ে সুমন স্টোরের মালিক সুমন মিয়ার ম্যানেজার টুটুল দাসকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানা আদায় করা হয় এবং জব্দকৃত জালগুলো ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চায়না দুয়ারি জাল পানির নিচে পেতে রাখলে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারিভাবে এই ধরনের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
অবৈধ জাল ব্যবহারকারী এবং মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল জলাশয়গুলোতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব। ভৈরব উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অভিযানের সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, মাছের পোনা নিধন বন্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে।
কোনোভাবেই যেন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করা না যায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। জব্দকৃত জালগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
