কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিউটন দাস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিউটন দাস চণ্ডীপুর গ্রামের শ্রীনন্দ দাসের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নিউটন দাস মাছ ধরার উদ্দেশ্যে হাওরে যান।
বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন। বজ্রপাতের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান, তবে ততক্ষণে ওই যুবকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিউটন দাসের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিউটন দাসের মৃত্যুতে তার পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বজ্রপাত বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
বর্ষাকালে হাওর এলাকায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে হাওর বা খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে হাওর এলাকায় মাছ ধরার সময় বা খোলা মাঠে কাজ করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে খোলা আকাশের নিচে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বারবার প্রচারণা চালানো হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে অসাবধানতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিউটন দাসের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে আরও বেশি প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা বা আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অষ্টগ্রামের এই ঘটনাটি হাওর এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। মাছ ধরার মতো জীবিকার প্রয়োজনে যারা হাওরে যান, তাদের জন্য বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার উপায়গুলো জানা থাকা অপরিহার্য। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় হাওরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নিহত নিউটন দাসের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রায়ই পরিবারগুলোকে অসহায় করে তোলে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলে।
কিশোরগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ সীমিত হওয়ায় সচেতনতাই এখন পর্যন্ত প্রধান সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অষ্টগ্রামের চণ্ডীপুর গ্রামের এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে বজ্রপাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
