কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মুদি দোকানের আড়ালে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে হক মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নদনা খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হক মিয়া ৫০ বছর বয়সী একজন মুদি দোকানি এবং তিনি নদনা গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মুদি ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, দোকানে বসেই কৌশলে ইয়াবা বিক্রি করছেন তিনি। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হক মিয়াকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার মাথার টুপির ভেতর থেকে ১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিনব কায়দায় মাথার টুপির ভেতর মাদক লুকিয়ে রেখে তিনি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হক মিয়া মুদি দোকানের আড়ালে মাদক কারবারের একটি জাল বিছিয়েছিলেন। পুলিশের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল যে তিনি টুপির ভেতর ইয়াবা রেখে কৌশলে তা বিক্রি করছেন।
সেই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই মূলত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কটিয়াদী মডেল থানায় হক মিয়ার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশের এই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। মুদি দোকানের মতো সাধারণ ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রির এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা এই মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
