কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে তুলে নিয়ে যাওয়া সেই নববধূর একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে ওই তরুণীকে একটি কক্ষে বসে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে ওই তরুণীর দুই পাশে কয়েকজন নারীকে বসে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষের দরজায় তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ভিডিও বার্তায় ওই নববধূ বলেন, তিনি যেভাবে বা যে পরিস্থিতিতেই সেখানে এসেছেন, এখন সেখানেই থাকতে চান। তিনি আরও বলেন, জোর করে হোক বা নিজের ইচ্ছায় হোক, তিনি যেহেতু এসেছেন, তাই এখন ফিরে গিয়ে কোনো লাভ নেই।
তিনি মনে করেন, ফিরে গেলেও তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের হারানো সম্মান আর ফিরে আসবে না। তাই তিনি ওই স্থানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ভিডিওতে উল্লেখ করেন। গত রোববার রাতে হোসেনপুর এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস আটকে ওই নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাইক্রোবাসটি থামিয়ে সেটির ওপর ভাঙচুর চালানো হয় এবং এরপরই ওই তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর বরপক্ষের পক্ষ থেকে হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত যুবক নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লেখেন যে জীবনে তাঁর আর কিছু চাওয়ার নেই।
তবে ভিডিও বার্তাটি সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণী বর্তমানে কোথায় আছেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় এই ভিডিও বার্তা দিয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযুক্ত যুবকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে। তিনি জানান, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে বরপক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কেউ এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। বিয়ের মতো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের পর বরযাত্রীর গাড়ি আটকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে নববধূর ভিডিও বার্তা প্রকাশ পাওয়ায় জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভিডিওর সত্যতা এবং তরুণীর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ভিডিও বার্তার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন থাকলেও, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
