ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে মোহাম্মদ বাবুল হোসেন নামের ৪৫ বছর বয়সী এক হাজতি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারারক্ষী মো. রাসেল এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোহাম্মদ বাবুল হোসেন কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ১৯০৫৯/২৬। মৃত ব্যক্তির বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার মনোহরপুর গ্রামে। তবে তিনি কোন মামলায় বা কী কারণে কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই মৃত্যুর বিষয়টি ইতিমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পরিদর্শক মো. ফারুক আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কারাগারের ভেতরে একজন হাজতির হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আইনি নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সাধারণত কারাগারে কোনো বন্দি বা হাজতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে বা অসুস্থ হয়ে মারা গেলে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা হয়। মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। বর্তমানে মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তা ও বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। এই ঘটনার পর কারাগারের ভেতরে বন্দিদের স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির দিকে আরও নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মোহাম্মদ বাবুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে এবং তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এই ঘটনার পর থেকে কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব নয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
