কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশ মাছবাহী একটি পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের নিয়ামতপুর এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। ডাকাত দল পিকআপে থাকা প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ এবং ব্যবসায়ীর কাছে থাকা নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পুরাতন ফিশারি ঘাট এলাকা থেকে ইলিশ মাছ কিনে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের কাজ করেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি পিকআপ ভ্যানে করে মাছ নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিয়ামতপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান তাদের গতিরোধ করে। এরপর ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। ডাকাতরা লাঠি ও রামদা প্রদর্শন করে চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ইলিশবোঝাই পিকআপটি নিয়ে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করলে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১২ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লুট হওয়া মাছের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা এবং ব্যবসায়ীর কাছে থাকা নগদ ৭১ হাজার টাকাও ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
এই ডাকাতির ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইলিশবোঝাই পিকআপ লুট ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মাছের মতো পচনশীল পণ্য পরিবহনের সময় এ ধরনের ডাকাতি ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতি সম্পন্ন করেছে।
তারা সাদা রঙের একটি পিকআপ ব্যবহার করেছে যা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং তাদের আচরণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি।
তিনি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
