ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন মানুষ নিহত হয়েছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সকালে মহাসড়কের বাতিসা এবং চৌদ্দগ্রাম বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বৈদ্দেরখীল গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে ২২ বছর বয়সী আবদুর রহমান। অন্য নিহত ব্যক্তি হলেন চাটিতলার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী আবুল হাশেম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা গোবিন্দ মানিক্য দিঘির দক্ষিণ পাড় এলাকায় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রলিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলচালক আবদুর রহমান গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় ট্রলিচালক আবদুস সোবহান আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে ওইদিন সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে চট্টগ্রামমুখী লেন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী আবুল হাশেম নিহত হন। নিহত আবুল হাশেম ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিয়ে করে দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভার চাটিতলা গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আল রায়হান পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনাগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি ব্যস্ত এলাকায় ঘটেছে, যেখানে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের ঝুঁকি এবং মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দেয়। এই দুটি পৃথক ঘটনায় একই দিনে দুজন প্রাণ হারানোয় স্থানীয় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
