চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই সরকার তাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ট্যাব প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, অতীতে কোনো সরকার শিক্ষা খাতে এত বড় আকারের বিনিয়োগ করেনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের পড়াশোনায় আরও অনুপ্রাণিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বিশেষ উপহারের পরিকল্পনা করেছেন। এই উপহারটি হলো ‘পিংক সাইকেল’ বা গোলাপি রঙের সাইকেল। ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নারী শিক্ষার হার আরও বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় নতুন করে উৎসাহ পাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে শিক্ষামন্ত্রী সরকারের শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ট্যাব প্রদান এবং ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার এই ঘোষণা শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ট্যাব বিতরণ কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে বা এর প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরকার মনে করছে, এই ধরনের প্রণোদনা শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য কাজ করছে।
এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
