এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ উপহার হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষামন্ত্রী তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তিনি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তাদের সবাইকে ল্যাপটপ প্রদান করা হবে।
গোল্ডেন জিপিএ-৫ বলতে সাধারণত সেই সব শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয় যারা পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ৮০ নম্বরের বেশি বা এ-প্লাস গ্রেড অর্জন করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে কুয়েটের সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রী তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং ট্যাব দেওয়ার পরিবর্তে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার সব বোর্ড মিলিয়ে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা এখন পর্যন্ত আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে ল্যাপটপ পাওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা কত হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার পর এখন শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যে, ল্যাপটপ বিতরণের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং কবে নাগাদ তারা এই উপহার হাতে পাবেন। ল্যাপটপ প্রদানের এই উদ্যোগটি মূলত শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ল্যাপটপ বিতরণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আবেদনের কোনো প্রক্রিয়ার কথা এখনো জানানো হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে এই ল্যাপটপ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ল্যাপটপ প্রদানের এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে তা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে যারা প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বীকৃতি। ল্যাপটপ বিতরণের এই কার্যক্রমটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ডিজিটাল উপহার তাদের উচ্চশিক্ষার পথে এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পুরো বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
