২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবেদন প্রক্রিয়াটি ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলমান থাকবে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবেদনের জন্য ২২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর মেধাতালিকা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ভর্তির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো গত ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছিল। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে এবং বাকি ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো: ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে। যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন। একই সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের ক্রম পরিবর্তনের সুযোগও পাবেন।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের প্রাথমিক নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনের সময় সতর্কতার সাথে তথ্য প্রদান করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করেন, তবে তার আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই ভর্তি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের পছন্দের কলেজে আবেদনের সুযোগ পান।
শিক্ষা বোর্ডগুলো আশা করছে, সময়সূচি অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অনলাইন আবেদনের প্রতিটি ধাপের নির্দেশনা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি কলেজে এই নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো সম্মিলিতভাবে এই ভর্তি প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি করছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে কলেজ নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভর্তিচ্ছুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আবেদনের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের নির্দেশিকা অনুসরণ করা জরুরি। ভর্তি প্রক্রিয়ার এই পুরো সময়সূচিটি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্দেশনা প্রদান করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভর্তি প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা তাদের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা জীবনের সূচনা করবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
তাই শিক্ষার্থীদের ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত ওয়েবসাইটটি পর্যবেক্ষণ করেন, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
