ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ও লেখালেখির কলাকৌশল নিয়ে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে ‘ওয়ার্কশপ অন রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং (সেশন ০১)’ শিরোনামে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। ইউআইইউ লিটারেচার অ্যান্ড রাইটার্স ফোরাম এবং ডিরেক্টরেট অব ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহিতুল ইসলাম। এছাড়া গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. ওমর ফারুক এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) সিএসই বিভাগের জুনিয়র লেকচারার আজওয়াদ আবরার। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাহিতুল ইসলাম বলেন, লেখালেখি কোনো জটিল বিষয় নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট গল্প, সংগ্রাম ও স্বপ্নই সাহিত্যের মূল উপাদান।
ডিজিটাল যুগে শব্দের শক্তি অপরিসীম এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও সমাজের বাস্তবতাকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে পারলে তা ইতিবাচক পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্টোরিটেলিং, কনটেন্ট রাইটিং এবং প্রযুক্তি ও মানবিক আবেগের মেলবন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত দিকও তিনি তুলে ধরেন।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে তরুণদের ক্যাম্পাস জীবনের রসবোধ ও সহজ-সরল উপস্থাপনায় পরিচালিত এই সেশনটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে বলে আয়োজকরা জানান। মূল আলোচনার পর অনুষ্ঠিত মুক্ত প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে শিক্ষার্থীরা লেখালেখির চ্যালেঞ্জ, বই প্রকাশের প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল মাধ্যমে লেখার কৌশল নিয়ে বক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
ইউআইইউর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীল প্রকাশ ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে ডিরেক্টরেট অব ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক নাহিদ হাসান খান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞানভিত্তিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং আমন্ত্রিত অতিথি ও বক্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কর্মশালার প্রথম সেশনের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক তানজিলা আমীর, ইউআইইউ লিটারেচার অ্যান্ড রাইটার্স ফোরামের সভাপতি লুৎফুল খবীর রাউফু, সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম এবং অর্থ সম্পাদক বদরুল আলম লিয়নসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালাটি তরুণ লেখকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের লেখালেখির দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণার মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে।
