জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে কথা বলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ করেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন যে, বর্তমানে দেশ একটি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন যে, এই সংকট খুব দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, বর্তমান সরকারের আমলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, সরকার গঠনের পর মূল সমস্যাগুলোতে গুরুত্ব না দিয়ে ব্যর্থ হয়ে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ব্যর্থতার ফলে সাধারণ মানুষ পুনরায় লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে দেশ ধীরে ধীরে আগের আমলে ফিরে যাচ্ছে এবং এভাবে পেছনের দিকে যেতে যেতে মানুষ প্রস্তর যুগেও চলে যেতে পারে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও উল্লেখ করেন যে, আমরা এখন ডিজিটাল যুগ থেকে পুনরায় অ্যানালগ যুগে ফিরে যাচ্ছি। তিনি দাবি করেন যে, জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন যে, এমন কোনো কার্ড থাকলে তারা যেন তা প্রদান করে, যার মাধ্যমে মানুষ তাদের বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যেতে পারে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা তার কথা বলেন। তিনি বলেন যে, দেশে ১১ দলীয় জোটসহ অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। তিনি আহ্বান জানান যে, দেশের পরিচালনার দায়িত্ব দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।n
এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের নিরসন এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার দাবিতে। এছাড়া চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতেও এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই সমাবেশের সমাপনীতে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের ব্যর্থতা এবং সেবা প্রদানের অভাবের সমস্যাগুলো উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে, এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
