আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতা বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার একটি প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে গোপন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।
প্রভাবশালী আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় অথবা কোনো মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকে, ঠিক সেই সংবেদনশীল সময়েই নাশকতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি তারাই দেখভাল করছেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিচারিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রভাবশালী আসামিদের বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ট্রাইব্যুনালে আসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সতর্কবার্তাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রবেশপথসহ পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিচারিক কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
এই ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের তথ্য বা পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হচ্ছে। বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রসিকিউশন পক্ষ সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা কঠোরভাবে পালন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিচারিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বদ্ধপরিকর। ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
