জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে তারা কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন না। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকবে, যার ফলে বিশৃঙ্খলাকারীরা ভয় পাবে।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এই কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হলো দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হলে তা সরকারের অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আগে যে ‘ফ্যামিলি ব্যবসা’ বা পারিবারিক ব্যবসার ধারণা গোপালগঞ্জে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন বগুড়াতেও শুরু হয়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মীর শাহ আলমের ৭০ কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এছাড়া তিনি সালাহউদ্দিনের ছেলের বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর না আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এর পেছনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো ভূমিকা আছে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের আশপাশে থাকা মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করছেন, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি তেলের হিসাব নিয়ে মন্তব্য করা মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, যিনি হিসাব করছেন তিনি কি তেলমন্ত্রী নাকি অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করছেন তা স্পষ্ট নয়। লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে এবং তারা এই কর্মসূচিকে কেবল একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন না।
বরং এটিকে একটি ‘আনন্দের সভা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, রাজনীতি অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের কথা শুনতে চান। গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে মানুষ যেভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এখন তারা মানুষের কাছে সেই প্রত্যাশা নিয়ে যাচ্ছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, বাংলাদেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবেই। লংমার্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি ন্যূনতম কোনো হামলা বা বিশৃঙ্খলা ঘটে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে।
তিনি এই দায়ভার সরকারের পাশাপাশি বিএনপির ওপরও বর্তাবে বলে উল্লেখ করেন। লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো আতঙ্ক বা ভয়ের পরিবেশ নেই বলে তিনি দাবি করেন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন বিশৃঙ্খলাকারীরা কোনো অশুভ তৎপরতা চালানোর সাহস পায় না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা মানুষের কথা শোনার জন্য এবং জনগণের দাবিগুলো তুলে ধরার জন্য এই লংমার্চের আয়োজন করেছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এই কর্মসূচিতে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
