আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচিকে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, এই লংমার্চ ও পরবর্তী সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, এই লংমার্চ থেকে জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো উত্থাপন করা হবে এবং এসব দাবি বাস্তবায়ন করা ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এছাড়া জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর লংমার্চ শেষে লালদিঘী ময়দানে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে এই কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি সর্বস্তরের জনগণকে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। মাঠ পরিদর্শনের সময় নেতারা সমাবেশের মঞ্চ, প্রবেশপথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লংমার্চ ও সমাবেশ সফল হবে।
মাঠ পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর শোয়ায়েব, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চ কর্মসূচিটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিটি বর্তমানে জনমনে ব্যাপক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
লংমার্চের দিন ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। লালদিঘী ময়দানের সমাবেশটি এই কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজক নেতারা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছাতে চান। লংমার্চের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া সমাবেশের দিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথেও সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৫ সেপ্টেম্বরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই লংমার্চ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিটি লংমার্চের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
