রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা ‘শুধু মাধবীর জন্য’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বইটির বিষয়বস্তু এবং লেখকের লেখনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আইনমন্ত্রী তার এই বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার যে আকুতি প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, লেখকের এই লেখনী অব্যাহত থাকবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, লেখক তার গ্রন্থে বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত যথার্থভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি গণতন্ত্রের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দেশকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের সন্তানদের নিয়ে দেশত্যাগ করেননি, বরং এই দেশকেই নিজের একমাত্র ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বইটির লেখক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তার অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, তিনি লেখক হওয়ার জন্য লেখেন না। তার ভাষায়, মাধবী নামের একটি কাল্পনিক চরিত্রের কাছে তিনি তার নিত্যদিনের অন্তর্জ্বালা, দুঃখ, ভালো লাগা, উপেক্ষার দহন এবং অবহেলাসহ বিভিন্ন অনুভূতির কথা লিখে প্রকাশ করেন। যখন এই বিষয়গুলো তাকে মানসিকভাবে পোড়ায়, তখনই তিনি লেখার আশ্রয় নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বইটির প্রশংসা করে বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হয়েও এই বইটি পাঠক সমাজে যে পরিমাণ সাড়া ফেলেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে অন্য কোনো লেখকের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং শিরীন সুলতানা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং দুর্বা গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কিউ এম ডি আহমেদ সুমন। বইটির ওপর আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট শিমুল পারভীন। প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পুঁথি পাঠ, কবিতা পাঠ, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এই আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।
বইটির বিষয়বস্তু এবং এর প্রকাশনা শৈলী নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা বিভিন্ন ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের সাহিত্যকর্ম সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে।
