হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বকেয়া আনুতোষিক এবং নিয়মিত উৎসব ভাতা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, রায় পাওয়ার পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ মোট ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব এই বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত এই সচিবদের প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে।
এই মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মোট ৩১ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী, তারা অবসরে যাওয়ার সময় সরকারি নিয়ম মেনে গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক গ্রহণ করেছিলেন। তবে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সমর্পণ করা সত্ত্বেও তার বিপরীতে প্রাপ্য আনুতোষিক থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
বিধি অনুযায়ী, গ্রস পেনশনের অবশিষ্ট ৫০ শতাংশের বিপরীতে অর্ধেক হারে এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এই অর্থ আটকে রেখেছে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, ইউপি সচিবরা পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী হিসেবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা পাওয়ার অধিকারী।
এছাড়া ১৯৯৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী (ভবিষ্য তহবিল এবং আনুতোষিক) বিধিমালায় ইউপি সচিবদের সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় পেনশন, আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পাওয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। রিট আবেদনকারীদের আইনজীবীর দাবি, বিদ্যমান আইনে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের সম্পূর্ণ আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা প্রদান না করা বেআইনি এবং বৈষম্যমূলক।
এটি তাদের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এর আগে ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। নোটিশ পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
চূড়ান্ত শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইনি যুক্তি পর্যালোচনার পর আদালত অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবদের প্রাপ্য গ্রস পেনশনের এককালীন ৭৫ শতাংশ আনুতোষিক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় নিয়মিত উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেন। আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
